নিশীথ - Prologue

আলিশান ফ্ল্যাটের ঝাড়বাতি গুলো চকচক করে জ্বলছে। উষ্ণ সোনালী আলোয় ভরে আছে পূরো অ্যাপার্ট্মেন্ট। কিন্তু, সেই আলোতেও যেন বেলকনির অন্ধকারটা কাটছে না।


সেখানে, রেলিংয়ে হেলান দিয়ে বসে আছে একটা আবছা, শক্তিশালী অবয়ব।


ঘামে ভেজা শ্যামলা গায়ে সুতোটুকুর ও বালাই নেই। চেহারায় সামান্য বয়সের ছাপ, লোমহীণ পেটা শরীরে সামান্য মেদ জমেছে। মোটা পুরুষাঙ্গ উত্তেজনায় সটান হয়ে আকাশের দিকে মুখিয়ে আছে, মাথার চ্রামড়াটা সরে গিয়ে ভেজা গোলাপী মাথাটা বেরিয়ে আছে, দরজার ফাঁকের চুঁইয়ে আসা আলোতে চকচক করছে। নিচে ঝুলে থাকা ভারী অন্ডকোষ দুটো প্রতিটা ছোট নড়াচড়ায় জীবন্ত হয়ে উঠছে, যেন নিজেরাই একটা স্বাধীন প্রাণী। তার যৌনাঙ্গ দেখলে যেকোন পুরুষ ঈর্যা করবে, পালিশ করা শরীরটা দেখলে মনে হয় কোনো মাস্টার কারিগর সবচেয়ে সুন্দর পাথর কেটে, যত্নে গড়ে তুলেছে, তার পৌরুষে সেই কারিগরের সব ভালোবাসা আর ক্ষমতা একসাথে ঢেলে দিয়েছে ।


তার চোখ জ্বলছে তীব্র আকাঙ্ক্ষায়। কিন্তু সেই আগুনের ভিতরে লুকিয়ে আছে একটু ভয়, উদ্বেগ।


চায়ের টেবিলের উপরে রাখা একটা ছবি। মায়াবী মুখের এক মেয়ে। দেখলে চোখ সরাতে ইচ্ছে করে না। তার চোখ দুটো যেন সত্যি সত্যি জীবন্ত, মনে হয় মনের সব কথা পড়ে ফেলছে। তার ঠোঁটের ভালোবাসার হাসিতে যেন কোন রহস্য লুকিয়ে আছে। যেন এখনই ছবি ছেড়ে বেরিয়ে পড়বে।


হঠাৎ বাতাসে হালকা একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। ঝাড়বাতির আলো এক পলকের জন্য কেঁপে উঠল। একটা মিস্টি ঘ্রান, পাশে থাকা ম্যাকালান ১৮ হুইস্কির ঘ্রান কেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে।


কাঁপা গলায় লোকটি বলল, "রূপা! তুমি... তুমি ফিরে এসেছো!"

মন্তব্যসমূহ